খেসারী ডাল (Grass pea)

0
273

পরিচিতি

বাংলা নাম : খেসারী
ইংরেজী নাম : Grass pea
বৈজ্ঞানিক নাম : Lathyrus sativus
পরিবার : Leguminosae

বাংলদেশে ডাল ফসলেরর মধ্যে এলাকা ও মোট উৎপাদনের দিক থেকে খেসারীর স্থান প্রথম। চাষের অধীনে মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২.৬ লক্ষ এবং উৎপাদন প্রায় ২ লক্ষ ৩৩ হাজার মে. টন।

খেসারীর জাত

বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট কর্তৃক এ পর্যন্ত খেসারীর ২টি উন্নত জাত উদ্ভিাবিত হয়েছে। এসব খেসারী জাতের পুষ্টিমান উচ্চ, এবং (ODAP) টক্সিনের পরিমাণ ক্ষতিকারক মাত্রার চেয়ে কম।

বারি খেসারী-১
বারিখেসারী-১ জাতটি ১৯৯৫ সালে অনুমোদন করা হয়েছে। এ জাত সমগ্র বাংলদেশে চাষ করা যায়।
বারি খেসারী-১ জাত স্থানীয় জাতের তুলনায় ৪০% পর্যন্ত বেশী ফলন দেয়। এ জাতের গাছ গাঢ় সবুজ এবং প্রচুর শাখা-প্রশাখা হয়ে থাকে। বারি খেসারী-১ জাতের হাজার বীজের ওজন ৪৮-৫২ গ্রাম। ফসল পাকতে ১২৫-১৩০ দিন সময় লাগে। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.৪-১.৬ টন। এ জাত পাউডারি ও ডাউনী মিলিডিউ রোগ প্রতিরোধী।

বারি খেসারী-২
বারি খেসারী-২ জাতটি ১৯৯৬ সালে সারাদেশে আবাদের জন্য অনুমোদন করা হয়। গাছের উচ্চতা ৫৫-৬০ সেমি। পাতা স্থানীয় জাতের তুলনায় বেশী চওড়া। ফুলের রং নীল। বীজ একটু বড়, হাজার বীজের ওজন ৫০-৫৫ গ্রাম। বীজের রং হালকা ধূসর। আমিষের পরিমাণ ২৪-২৬%। বীজ বপন থেকে ফসল পাকা পর্যন্ত ১২৫-১৩০ দিন সময় লেেগ। ফলন হেক্টরপ্রতি ১.৫-২ টন।

খেসারি ডাল ভাঙ্গা

জমি তৈরী

খেসারী প্রধানত বোনা আমন ধান কাটার পূর্বে রিলে ফসল হিসেবে আবাদ করা হয়। সেজন্য জমি চাষের প্রয়োজন হয় না। একক ফসল হিসেবে আবাদের ক্ষেত্রে ৩-৪ টি চাষ ও মই দিতে হয়।

বপনের সময়

রিলে ফসলের ক্ষেত্রে আমন ধানের পরিপক্কতাকাল এবং জমির রসের পরিমাণের উপর খেসারীর বীজ বপনের সময় নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে কার্তিক মাস থেকে মধ্য-অগ্রহায়ণ (মধ্য-অক্টোবর থেকে নভেম্বর) পর্যন্ত বীজ বপন করতে হয়। একক ফসলের জন্য মধ্য-কার্তিক থেকে মধ্য-অগ্রহায়ণ (নভেম্বর) মাসে বীজ বপন করা উত্তম।

বপন পদ্ধতি

রিলে হিসেবে চাষ করলে আমন ধান কাটার প্রায় এক মাস পূর্বে জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা অবস্থায় বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। একক ফসল হিসেবেও বীজ ছিটিয়ে বপন করা যায়। তবে সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি রাখতে হবে।

বীজের হার

প্রতি হেক্টরে ৪০-৫০ কেজি বীজ লগে, তবে রিলে ফসলের ক্ষেত্রে বীজের পরিমাণ কিছু বেশী দিতে হয়।

সারের পরিমাণ

খেসারীর রিলে ফসলের ক্ষেত্রে সারের প্রয়োজন হয় না। একক ফসলের জন্য অনুর্বর জমিতে হেক্টরপ্রতি নিম্নরুপ হারে সার ব্যবহার করতে হবে।

সারের নামসারের পরিমান/হেক্টর
ইউরিয়া৪০-৫০ কেজি
টিএসপি৮০-৮৫ কেজি
এমপি৩০-৪০ কেজি
অণুজীব সারসুপারিশ মত
সারের মাত্রা
খেসারি ডাল খেত

সার প্রয়োগ পদ্ধতি

সমুদয় সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে। পূর্বে খেষারীর চাষ না করা জমিতে আবাদের জন্য প্রতি কেজি বীজের সাথে ১০০ গ্রাম হারে অনুমেদিত অনুজীব সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

রোগবালাই দমন

খেসারীর ডাউনি মিলডিউ রোগ দমন
পেরোনোসাপোরা ভিসি নামক ছত্রাক এ রোগ ঘটায়। রোগাক্রান্ত খেসারী গাছের পাতা কিছুটা হলদে হয়ে যায়। পাতার নিচে লক্ষ করলে ছত্রাকের অবস্থান খালি চোখেই দেখা যায়। রোগের মাত্রা বেশী হলে পাতা কুঁচকে ও ঝলসে যায়। এ ছত্রাকের জীবাণু মাটিতে ১-২ বৎসর বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকার
১। রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন বারি খেসারী-১ এবং বারি খেসারী-২ চাষ করতে হবে।
২। রিডোমিল এম জেড (০.২%) ১২ দিন অন্তর ৩ বার সেপ্র করে এ রোগ দমন করা যায়।

ফসল সংগ্রহ

ফাল্গুন (মধ্য-ফেব্রুয়ারী থেকে মধ্য-মার্চ) মাসে ফসল সংগ্রহ করতে হয়।

রিপ্লাই করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন
দয়া এখানে আপনার নাম লিখুন